ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে সচেতনতামূলক র্যালি ও প্রচারণা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার, ৬ জুন সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালিটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়।
“নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, সবাই মিলে সুস্থ থাকি” এবং “তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন” স্লোগানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্থানীয় জনগণ অংশগ্রহণ করেন।
র্যালি শেষে জেলা প্রশাসক সুহানা নাসরিন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী,ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. নাজমুল করিম এবং কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.নুর মোহাম্মদ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন।
এ সময় তারা রোগিদের খোঁজখবর নেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক বার্তা প্রদান করেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক সুহানা নাসরিন বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি ও পারিবারিক সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও পানি জমতে দেয়া যাবে না।” তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা পরিষ্কার ও স্থির পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ি, অফিস ও আশপাশের এলাকায় তিন দিনের বেশি কোনো পাত্রে পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। ফুলের টব, টায়ার, ডাবের খোসাসহ বিভিন্ন পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এছাড়া এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় উল্লেখ করে লম্বা পোশাক পড়া এবং দিনের বেলায় ঘুমানোর সময়ও মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
চিকিৎসকরা জানান, তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও মাংসপেশীতে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা এবং শরীরে লালচে দানা ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো জরুরি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করার আহ্বান জানানো হয়।
কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। জনসচেতনতা বৃদ্ধির এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।