কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে উপজেলা বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে কবরস্থানের জায়গায় দলীয় কার্যালয় নির্মাণ, জমি দখল, বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী দুই পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার, ৬ জুন কিশোরগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাখাওয়াত আলী খান বাবুল ও জনি মিয়া লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ এবং সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সজু মিয়ার কর্মকাণ্ডের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাখাওয়াত আলী খান বাবুল জানান, ২০০৯ সালে তিনি তার চাচা মাহবুব আলী খানের কাছ থেকে সাড়ে ৯ শতাংশ বসতভূমি এবং দুটি টিনশেড ভবন ক্রয় করেন। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার সুযোগে তার সম্পত্তি দখল করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়া তার পারিবারিক কবরস্থানের একটি অংশে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের উপস্থিতিতে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে জনি মিয়া অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালে সজু মিয়ার কাছ থেকে ৩ শতাংশ বসতভিটা ও একটি পুরাতন ভবন ক্রয় করার পর সেটি সংস্কারের উদ্যোগ নিলে তাকে বাধার মুখে পড়তে হয়। তার দাবি, সজু মিয়া তার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন এবং পরে তাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। প্রতিবাদ করলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ জমি ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জনি মিয়া আরও বলেন, বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং নিজের ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে প্রবেশ করতে পারছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়গুলো নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো প্রতিকার পাননি। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।