কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে প্রায় এক বছর আগে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ও ক্লু-লেস জাহাঙ্গীর মিয়া হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
শুক্রবার, ৫ জুন সকালে পিবিআই কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কুলিয়ারচর উপজেলার বড়খারচর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মিয়া (৪২) ২০২৫ সালের ২ জুলাই সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন।পরদিন বিকেলে বড়খারচর মধ্যপাড়ার একটি নেপিয়ার ঘাসের ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা দিলুয়ারা বেগম বাদি হয়ে কুলিয়ারচর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও দীর্ঘ দুই মাসেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি।পরবর্তীতে পিবিআই কিশোরগঞ্জ জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.আব্দুল্লাহ আল মাসুদের তত্ত্বাবধানে এবং এসআই মাহবুব আলমের নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী দল তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে।
তদন্তের সূত্র ধরে গত ১ জুন কুলিয়ারচরের বড়খারচর এলাকা থেকে হুসনা খাতুন (৪৫) এবং ৪ জুন কিশোরগঞ্জ শহরের বড়পুল এলাকা থেকে তার স্বামী শহীদ মিয়া (৪৮)কে গ্রেফতার করা হয়। পরে উভয় আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পিবিআই জানায়, তদন্তে উঠে এসেছে যে নিহত জাহাঙ্গীর মিয়ার সঙ্গে হুসনা খাতুনের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। ঘটনার রাতে তারা একটি নেপিয়ার ঘাসের ক্ষেতে দেখা করেন। এ সময় হুসনার স্বামী শহীদ মিয়া সেখানে গিয়ে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান।পরে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে জাহাঙ্গীর মিয়ার শরীরে আঘাত করে তাকে হত্যা করেন।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।