স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট কাটাতে আগামী জুলাই মাস থেকে সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।এর মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বুধবার, ২৭ মে দুপুরে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগিদের চিকিৎসা সেবার খোঁজ খবর নেন। তিনি রোগিদের খাবার নিজে খেয়ে যাচাই করে। পরিদর্শন করেন এ সময় খাবারের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা ও পানি দ্রুত পরিষ্কারের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী।
এছাড়া হাসপাতালের নষ্ট বেড ও অপ্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আগামী সাত দিনের মধ্যে নিলামের মাধ্যমে বিক্রির নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ পদ্ধতি বন্ধ করে বিকল্প ব্যবস্থা নেয়ার চিন্তা করছে সরকার। তিনি অভিযোগ করেন, আউটসোর্সিং ব্যবস্থায় একাধিক স্তরের ঠিকাদার কর্মীদের পাওনা অর্থের একটি বড় অংশ আত্মসাৎ করছে, যা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী প্রশাসনকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে অবৈধ ক্লিনিকগুলো চিহ্নিত করে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও জানান, দেশে এ পর্যন্ত প্রায় দুই কোটি শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের কাছে পর্যাপ্ত টিকা মজুদ রয়েছে। যেসব শিশু এখনও টিকা নেয়নি, তাদের টিকার আওতায় আনতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতে নানা সীমাবদ্ধতা ও জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “অনেক ঘাটতি থাকার পরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যাচ্ছি।”
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এক লাখের বেশি ডেঙ্গু স্যালাইন মজুদ রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চলতি বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ অর্থ দিয়ে হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, জনবল নিয়োগ এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ ১ আসনে সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, হাসপাতাল ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।