জেলা বিএনপি'র শীর্ষ নেতা কর্তৃক গঠিত ছাত্রদলের সিন্ডিকেট কমিটি বাতিলের দাবিতে শহরের প্রধান সড়কে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেছে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াকিউর সমর্থকরা।
বৃহস্পতিবার, ৭ মে শহরের প্রধান সড়ক গৌরাঙ্গ বাজার মোড় অবরোধ করে এই ব্লকেট কর্মসূচি পালন করা হয়। ঘন্টাব্যাপী এই অবরোধ কর্মসূচিতে ছাত্রদলের এই সিন্ডিকেট কমিটি বাতিলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান প্রদান করে বঞ্চিত ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
ব্লকেট কর্মসূচি থেকে বক্তারা শরিফুল আলমসহ তার সিন্ডিকেটকে কিশোরগঞ্জ থেকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন। রাজপথে থেকে তাদের ন্যায্য দাবি আদায় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচি চলাকালে সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। শুরুতে পুলিশ গিয়ে রাস্তা থেকে সরে যাবার আহ্বান জানালে বিক্ষুব্দরা বিভিন্ন স্লোগানে স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে রাখেন।ঘণ্টাখানেক পর তারা কর্মসূচি তুলে নেন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পাভেল হাসান, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি রিয়াদ আজিজ, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সানি আহমেদ খান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জে নবগঠিত জেলা ছাত্রদল কমিটিকে কেন্দ্র করে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি ও প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলমের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তাকে জেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, কেন্দ্র ঘোষিত কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যের কমিটি ঘোষণার পর অস্বাভাবিকভাবে তা স্থগিত করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে কমিটি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি করা হয়। তারা দাবি করেন, পূর্বে ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদককে বাদ দিয়ে এবং বিভিন্ন মহলের হস্তক্ষেপে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, অতীতে আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগী নেতাকর্মীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও বর্তমান কমিটিতে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। তারা রেদোয়ান রহমান ওয়াকিউরের নেতৃত্বে আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে নতুন কমিটিকে “সিন্ডিকেট নির্ভর” আখ্যা দেন এবং তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন।
সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, দাবি আদায়ে তারা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। একইসঙ্গে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বর্তমান কমিটি বাতিল করে ওয়াকিউরকে পুনর্বহালের দাবি জানান।
এসময় শরিফুল আলম ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হয় এবং তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানো হয়।