কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে পানান বিলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বিলের প্রায় সাড়ে ৩শ’ একর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কাটার আগমুহূর্তে স্বপ্নের ফসল চোখের সামনে ডুবে যেতে দেখে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার শত শত কৃষক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বৃহত্তম পানান বিলের নিচু এলাকার জমিগুলো এখন পানির নিচে। ধান কাটার ভরা মৌসুম শুরু হলেও হঠাৎ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। অনেক জায়গায় কৃষকদের বুক সমান পানিতে নেমে ধান কাটতে দেখা গেছে। শ্রমিক সংকট এবং অতিরিক্ত পারিশ্রমিকের কারণে অনেকে সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না। যারা কাটছেন, তাদেরও নৌকা বা ভেলায় করে ধান নিরাপদ স্থানে সরাতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বিলের ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন কৃষক জানান, ধার-দেনা করে এবার বোরো আবাদ করেছিলেন তারা। ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মাঠের ধান তলিয়ে যাওয়ায় এখন তাদের মূলধন ওঠানোই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ধান দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে থাকলে পচন ধরার আশঙ্কা করছেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, অতিবৃষ্টিতে পানান বিলসহ উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি ৮০ শতাংশ পাকলেই ধান কাটার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
জলাবদ্ধতার কারণে আধুনিক হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে হাতে ধান কাটতে গিয়ে শ্রমিকের খরচ স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। অনেক কৃষক তাদের শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজেই ধান কাটার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে এবং বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।