ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব এবং তথ্য যাচাই ছাড়াই গুরুতর ধারায় মামলা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার তারুন্দিয়া ইউনিয়নের ছোট রাঘবপুর গ্রামে কচু গাছের পাতা ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিবাদে চারজন আহত হলেও পুলিশ কেবল একপক্ষের অভিযোগ আমলে নিয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। মামলার সবচেয়ে আলোচিত ও বিচিত্র দিক হলো, ভুক্তভোগী নারী নিজে গুরুতর আঘাতের কথা অস্বীকার করলেও নথিতে 'মারাত্মক জখম' দেখিয়ে যুক্ত করা হয়েছে জামিন অযোগ্য ৩২৬ ধারা। এরই প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে না গিয়ে কেবল ছবির ওপর ভিত্তি করে মামলা সাজিয়েছেন বলে বিবাদী পক্ষ অভিযোগ করেছে। এমনকি মামলার প্রধান ভিকটিম বিউটি আক্তার নিজেও অস্বীকার করেছেন যে, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের কোনো চিহ্ন বা সেলাই করা হয়নি। জখম না থাকা সত্ত্বেও এমন কঠোর ধারায় মামলা ও পুলিশের একপেশে ভূমিকা নিয়ে এলাকায় তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় আহত আবুল মুনসুর (৪২) ও বিউটি আক্তার (৪৫) পরিবারের পক্ষ থেকে মঞ্জুরুল হক বাদি হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫/৭ জনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেন। অপরদিকে রানা মিয়া (২৪) ও সোহেল মিয়া (২১) আহত পরিবারের পক্ষ থেকে রুহুল আমিন বাদি হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ রুহুল আমিনের অভিযোগটি আমলে না নিয়ে শুধুমাত্র মঞ্জুরুল হকের অভিযোগটিকেই মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছেন।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিবাদি পক্ষের ৮জন আদালতে হাজির হলে আদালত ৬জনের জামিন দিলেও ফারুক মিয়া (২৮) ও রফিকুল ইসলাম (৪১) দুইজনের উপর ৩২৬ ধারার অভিযোগ থাকায় আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তারা জেলহাজতে রয়েছেন।
এদিকে মামলায় গুরুতর ধারার সংযোজন নিয়েও বিবাদি পক্ষ দাবি করেন, ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া জামিন অযোগ্য ধারা বসিয়ে হয়রানি করার উদ্যেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আবু রায়হান বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিউটি আক্তারকে পাননি, তবে ছবিতে আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
বিউটি আক্তারের মাথায় গুরুতর আঘাত সম্পর্কে মামলার বাদি মঞ্জুরুল হকের সাথে কথা হলে তিনি বিউটি আক্তারের মাথায় আঘাতের চিহ্নের একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, গুরুতর আঘাতের ফলে মাথায় তিন চারটি সেলাই করতে হয়েছে। এছাড়াও তার ভাই আবুল মুনসুর ও গুরুতর আহত হয়েছে।
অপরপক্ষের অভিযোগকারী রুহুল আমিন বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মাঝে মারামারি হয়। এতে উভয় পক্ষের দুজন করে চারজন আহত হয়। পরে দুপক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনার যাচাই-বাছাই না করে পক্ষপাতিত্ব করে মঞ্জুরুল হকের অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করে। থানা পুলিশের এ ধরনের পক্ষপাতিত্ব কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি জানাই।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল আজম বলেন, প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। উভয় পক্ষের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।