ডিম ও মুরগির ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং খাদ্য, ঔষধ ও ভ্যাকসিনের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে পোল্ট্রি খামারিরা।
রবিবার, ১২ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী খামারিরা জানান, বেকারত্ব দূর করে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে তারা পোল্ট্রি শিল্পে বিনিয়োগ করেছেন। এই খাতের মাধ্যমে দেশে বর্তমানে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু গত এক বছর ধরে ডিমের বাজারমূল্য নিম্নমুখী থাকায় খামারিরা মারাত্মক লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন।
তাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত খামার পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের মূল্য ১০ টাকা ৮০ পয়সা হলেও বাস্তবে তারা বাধ্য হয়ে ৭ থেকে ৭ টাকা ৫০ পয়সায় ডিম বিক্রি করছেন। ফলে উৎপাদন খরচও উঠছে না, অনেক খামারি পুঁজি হারিয়ে ব্যাংক ঋণ ও এনজিওর কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে চরম সংকটে পড়েছেন।
খামারিরা আরও দাবি করেন, দেশের পোল্ট্রি খাত গুটিকয়েক বহুজাতিক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। এসব কোম্পানি নিজেরাই খাদ্য, বাচ্চা উৎপাদন এবং বিপুল পরিমাণ ডিম উৎপাদন করে বাজারে প্রভাব বিস্তার করছে, যা সাধারণ খামারিদের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মানববন্ধন থেকে দ্রুত খাদ্য, বাচ্চা, ঔষধ ও ভ্যাকসিনের দাম কমানো এবং ডিমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বহুজাতিক কোম্পানির অনিয়ন্ত্রিত উৎপাদন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
খামারিরা সতর্ক করে বলেন, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পোল্ট্রি শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে এবং লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় বিরূপ প্রভাব পড়বে।
এ সময় সংগঠনের আহ্বায়ক মো. সাদেকুর রহমান ও সদস্য সচিব মো. রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।