"আমার কোল খালি হতে দিয়েন না, আপনারা একটু সদয় হলে আমার একমাত্র ছেলেটা বেঁচে যাবে। আমার নিষ্পাপ শিশু তামজীদকে বাঁচাতে আপনারা এগিয়ে আসুন।" এভাবেই কান্নায় ভেঙে পড়ে নিজের দেড় বছর বয়সী একমাত্র সন্তানকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছেন মা শোভা আক্তার।
জানা গেছে, ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের কুচুরী গ্রামের দিনমজুর দম্পতি আজিজুল হক ও শোভা আক্তারের একমাত্র সন্তান তামজিদ হাসান তাকরীম। মাত্র ১৮ মাস বয়সেই শিশুটির শরীরে বাসা বেঁধেছে ‘বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া’ নামক এক বিরল ও জটিল লিভার সিরোসিস রোগ। বর্তমানে শিশুটি মৃত্যুশীতল ছোঁয়ার সাথে লড়াই করছে। চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি গুরুতর গ্যাস্ট্রো-ইনটেস্টাইনাল ডিসঅর্ডার, যেখানে পিত্তনালী ব্লক হয়ে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওষুধে এই রোগের স্থায়ী সমাধান নেই। শিশুটিকে বাঁচাতে হলে অতি দ্রুত ‘লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট’ বা লিভার প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন। আর এই ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৩০/৩২ লাখ টাকা। যা এই অসহায় পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাবা আজিজুল হক অন্যের দোকানে কাজ করেন এবং মা শোভা আক্তার গৃহপরিচারিকার কাজ করে সংসার চালান। নুন আনতে পান্তা ফুরানো এই সংসারে তামজিদ ছিল সুখের প্রদীপ। কিন্তু সেই প্রদীপ এখন নিভু নিভু। সন্তানের চিকিৎসার জন্য ভিটেমাটি বাদে সব সম্বল শেষ করে ফেলেছেন তারা। এ পর্যন্ত সঞ্চিত ও ধার-দেনা করে ৭/৮ লাখ টাকা শিশুর চিকিৎসায় খরচ করেছেন। ঢাকা পপুলার হাসপাতাল, পিজি হাসপাতাল ও আগারগাঁও শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরেও অর্থাভাবে চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পারেননি। সময় যত গড়াচ্ছে, তামজিদের অবস্থা ততই সংকটাপন্ন হচ্ছে।
অসহায় মা শোভা আক্তার সমাজের বিত্তবান শ্রেণি, জনপ্রতিনিধি এবং স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, "মানুষ মানুষের জন্য। আপনাদের সামান্য সহযোগিতাই পারে আমার ছেলেকে নতুন জীবন দিতে। আমার ছেলেকে বাচাঁন, আমি আপনাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ থাকবো।”
একটি ফুটফুটে নিষ্পাপ শিশুকে অকাল মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে দানশীল ও দয়ালু ব্যক্তিদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে তামজীদের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য ০১৭৯৫-৫৬৩৯১২ নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী।