জামালপুর জেলার সাতটি থানার মধ্যে শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মেলান্দহ থানার ওসি মো. ওবায়দুর রহমান।
রবিবার, ২৯ মার্চ সকালে জামালপুর পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে মাসিক কল্যাণ সভা শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তার হাতে শ্রেষ্ঠ ওসির সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন জেলা পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন।
জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিশেষ অবদান রাখায় তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও জনবান্ধব আচরণের জন্য তিনি সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছেও প্রশংসিত হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, জামালপুর জেলা পুলিশ সবসময় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দায়িত্ব পালনে যারা নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন, তাদের স্বীকৃতি দিতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ধরনের সম্মাননা পুলিশ সদস্যদের আরও উদ্দীপনা জোগাবে এবং সেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে বাহিনীর মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।
পুরস্কারপ্রাপ্ত ওসি মো. ওবায়দুর রহমান তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, এই অর্জন শুধু আমার একার নয়, মেলান্দহ থানার সকল কর্মকর্তা এবং এলাকাবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতার ফল।
তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি মাদক, সন্ত্রাস ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করে যাচ্ছেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরবচ্ছিন্নভাবে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। ভবিষ্যতেও সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এবারের পুরস্কারের তালিকায় জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিট থেকে মোট ১১ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে মনোনীত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মাদারগঞ্জ থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ, জামালপুর থানার নারায়ণপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. মকবুল হোসেন, এসআই মো. সিরাজুল হক ও খাইরুজ্জামান, জেলা গোয়েন্দা শাখা-২ এর এসআই রফিকুল ইসলাম, ট্রাফিক বিভাগের টিএসআই রাশেদুল ইসলাম, মেলান্দহ থানার এসআই মো. রুবেল মিয়া এবং মাদারগঞ্জ থানার থানার এসআই মো. ওয়াজিউর রহমান, মো. হাসিব আল মাহফুজ ও মো. মোর্শেদ মিয়া উল্লেখযোগ্য।
পুলিশ বিভাগের মতে, এ ধরনের স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জনকে সম্মানিত করে না, বরং পুরো বাহিনীর মধ্যে কর্মস্পৃহা বাড়ায় এবং জনসেবার মান আরও উন্নত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।