কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অতিদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত কার্ডের ভাগ না পেয়ে এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ওই ইউপি সদস্যকে ধরে এনে দিতে পারলে ২০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণাও দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে ও বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাগড়া গ্রামে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ মানুষ ও প্রকৃত দুস্থদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল হাই ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি। অভিযুক্ত কাইয়ুম একই ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৬৫টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৯০টি কার্ড দাবি করে আব্দুল হাই মেম্বারের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন কাইয়ুম। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে কাইয়ুম মোবাইল ফোনে মেম্বারকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে ২০-৩০ জনকে সঙ্গে নিয়ে অস্ত্রসহ আব্দুল হাইয়ের বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভিজিএফ কার্ড বণ্টনে আগে গোপনে অনিয়ম হলেও এখন তা প্রকাশ্যেই হচ্ছে। ফলে প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। সরকারি নীতিমালায় স্বচ্ছতার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে এখনও ‘ভাগ-বাটোয়ারা’ প্রথা চালু রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ খোকা মিয়া বলেন, কাইয়ুম তাকে ফোন করে আব্দুল হাইকে ধরে এনে দিলে ২০ হাজার টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চাওয়া ১৯০টি কার্ড না পাওয়াতেই এই বিরোধ।
ভুক্তভোগী আব্দুল হাই মেম্বার জানান, “আমি ৩৬৫টি কার্ডের বরাদ্দ পেয়েছি। এর মধ্যে ১৯০টি দিলে সাধারণ মানুষকে কী দেব—এই প্রশ্ন করায় আমাকে হুমকি দেয়া হয়। পরে আমার বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। এখনো আমাকে ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।” তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।