কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কুলিয়ারচর পৌরসভার সাবেক মেয়র নূরুল মিল্লাতের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার বাদ আছর পৌর শহরের কুলিয়ারচর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ সমাহিত করা হয়।
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি সকাল পৌনে ৯টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৮টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। মৃত্যুকালে স্ত্রী এক ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য রাজনৈতিক সহকর্মী, আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে কুলিয়ারচর উপজেলা রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। দলীয় নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের মানুষ একজন পরীক্ষিত জনপ্রতিনিধি ও ত্যাগী রাজনৈতিক নেতাকে হারিয়ে শোকাহত।
তাঁর মৃত্যুতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম, ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম.এ হান্নান, ভৈরব পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ভিপি মো. মজিবুর রহমান, কুলিয়ারচর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শাহাদাৎ হোসেন শাহ্ আলম, ভৈরব প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মোস্তাফিজ আমিন ও সদস্য সচিব সোহেলুর রহমান, কুলিয়ারচর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহ্ আলম ও সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ কাইসার হামিদ পৃথক পৃথক ভাবে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
তাঁর মৃত্যুতে কুলিয়ারচর উপজেলা ও পৌর বিএনপি তিন দিনের শোক ঘোষণা করে। তিনদিন নেতা কর্মীদের কালো ব্যাজ ধারণ, পার্টি অফিস গুলোতে দলীয় ও কালো পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শাহাদাৎ হোসেন শাহ্ আলম।
নূরুল মিল্লাত ১৯৫১ সালে কুলিয়ারচর পৌর এলাকার খরকমারা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম মৌলভী আবুল কারাহ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ। তিনি ১৯৭৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করেন। ১৯৭৭সালে কুলিয়ারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৮ সালে তিনি মিশর সফর করেন। ১৯৯২-৯৩ সালে চেয়ারম্যান হিসেবে সরকারের কাছ থেকে স্বর্ণপদক পান। তিনি ১৯৭৭ থেকে ৯৭ সাল পর্যন্ত টানা ৪ বার কুলিয়ারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এরই মধ্যে তিনি ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এছাড়া তিনি কুলিয়ারচর পৌরসভার দুইবার মেয়র ও একবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ গত ২০২২ সালের ২ এপ্রিল উপজেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে সৎ ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এছাড়াও তিনি কিশোরগঞ্জ মালটি পারপাস সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান এবং কুলিয়ারচর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কুলিয়ারচর কিণ্ডারগার্টেনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
"নুরুল মিল্লাত ছিলেন একজন সাহসী, সৎ ও ত্যাগী রাজনীতিবিদ। দলের দুঃসময়ে তিনি দৃঢ় অবস্থানে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাই তিনি কুলিয়ারচর ও আশপাশের জনপদের মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও শ্রদ্ধাভাজন মুখ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলীয় আদর্শে অবিচল থেকে জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যু শুধু কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির জন্য নয়, পুরো কিশোরগঞ্জ জেলার রাজনীতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।"
রাজনৈতিক সহকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নুরুল মিল্লাত ছিলেন সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের সাথী। সুখ-দুঃখে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
মহান আল্লাহ যেন মরহুম নুরুল মিল্লাতকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তাঁর পরিবার-পরিজনকে এই শোক সইবার শক্তি দান করেন-এই প্রত্যাশাই এখন সর্বস্তরের মানুষের।