কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’-এর অংশ হিসেবে বিশেষ অভিযান চালিয়ে উছমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. লিটন মিয়া ও পৌর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান বাচ্চুকে গ্রেফতার করেছে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ।
বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর বিকাল ৩টার দিকে উছমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. লিটন মিয়াকে কিশোরগঞ্জ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। তিনি উছমানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য বলে জানান পুলিশ।
বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর রাত ২টার দিকে তার গ্রামের বাড়ি উছমানপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
অপরদিকে মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে কুলিয়ারচর পৌর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান বাচ্চুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন দুপুরে কিশোরগঞ্জ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয় তাকে।
এই নিয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কুলিয়ারচর পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ৮ জন আওয়ামী লীগের নেতাকে আটক করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নূরুন্নবী ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) খোকন চন্দ্র সরকার।
গ্রেফতার অন্যান্যরা হলেন, উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. হীরা মিয়া সরকার, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ইমরান মিয়া, যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. শাহা আলম, ছয়সূতী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন, ফরিদপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সুরুজ খান এবং ছয়সূতী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. শরীফ।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা বিস্ফোরক ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দিগ্ধ আসামী।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নূরুন্নবী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধ দমনের লক্ষ্যে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’-এর আওতায় নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৮ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে পুলিশের এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।