কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর পৌর এলাকার বড়খারচর গ্রামের বাসিন্দা কুলিয়ারচর প্রতিবন্ধী সেবা সংস্থা'র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নারী উদ্যোক্তা সাংবাদিক ফারজানা আক্তার "অদম্য নারী পুরস্কার-২০২৫" পেয়েছেন। সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখায় তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর বেলা তিনটায় এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
“নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি” এ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে নারী জাগরণ ও নারী অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪৫তম জন্ম ও ৯৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পালিত আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও রোকেয়া দিবস উপলক্ষে কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করা- সফল জননী, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যেমে জীবন শুরু করা, সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখা, অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী এবং শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে অবদান রাখা অদম্য ৫ নারীকে আনুষ্ঠানিক ভাবে সংবর্ধনা দিয়ে তাদের হাতে ক্রেস্ট, সনদ ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। এদের মধ্যে সাংবাদিক ফারজানা আক্তার একজন অদম্য নারী। অন্যান্যরা হলেন সফল জননী মরিয়ম নেসা, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা নারী মোছা. আসমা বেগম, অর্থনৈতিকভাবে সাফলতা অর্জনকারী নারী মহামায়া দাস এবং শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে অবদান রাখা নারী চৈতী রাণী দাস।
আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইয়াসিন খন্দকারের সভাপতিত্বে ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমানের সঞ্চালনায় স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তমাল কান্তি মল্লিক, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মাসুদ রানা, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এস.আর.এম.জি কিবরিয়া, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহবুবা সিদ্দিকী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাংবাদিক মো. নাঈমুজ্জামান নাঈম ও সাংবাদিক মো. সবুজ মিয়াসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কমচারীবৃন্দ।
উল্লেখ্য, ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের পায়রাবন্দে রোকেয়ার জন্ম। ১৯৩২ সালের একই দিনে তিনি কলকাতায় মারা যান। ক্ষণজন্মা মহীয়সী এই নারীর জন্ম ও মৃত্যুদিন ঘিরে প্রতিবছর পালন করা হয় বেগম রোকেয়া দিবস।