
ময়মনসিংহের নান্দাইলে এক গৃহবধূকে (২৪) জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার আপন প্রতিবেশী ও সম্পর্কে জেঠাতো ভাই মজিবুর রহমানের (৪৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী মো. ওয়াসিম মিয়া বাদি হয়ে নান্দাইল মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু থানা থেকে অভিযোগ তুলে নিতে বাদিকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে অভিযুক্ত মজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মজিবুর রহমান উপজেলার বীর বেতাগৈর ইউনিয়নের বীর কামটখালী গ্রামের মৃত আ. কাদিরের ছেলে। বাদি ওয়াসিম মিয়া ও অভিযুক্ত মজিবুর রহমান পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করেন এবং তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই। অভিযুক্ত মজিবুর রহমান গত প্রায় সাত মাস ধরে ওয়াসিমের স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গত ৩০ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই গৃহবধূ বাড়ির পাশে পানির মোটরের কাছে হাত-মুখ ধুতে যান। এ সময় আগে থেকেই ওত পেতে থাকা মজিবুর রহমান পেছন থেকে গৃহবধূর মুখ চেপে ধরে। পরে তাকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে পাশের জনৈক এনামুল হকের নির্মাধীন পাকা ভবনে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় গৃহবধূর ধস্তাধস্তি ও ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে অভিযুক্ত মজিবুর পালিয়ে যায়। এরই ক্ষোভে ভোক্তভোগী ও পরিবারের লোকজন নিজেদের জায়গায় বাঁশের বেড়া দিয়ে মজিবুর রহমানের পথ বন্ধ করে দেয়।
ভুক্তভোগীর স্বামী ওয়াসিম মিয়া জানান, এর আগেও প্রায় ৫ মাস আগে মজিবুর রহমান রাতের অন্ধকারে ঘরে ঢুকে তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছিল। সে সময় বিষয়টি জানাজানি হলে মজিবুর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। কিছুদিন পর এলাকার এরশাদ মিয়া নামক এক ব্যক্তির স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করলে, এরশাদ মিয়ার দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদ ঘটে। গৃহবধুর জা সোমা আক্তারসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মজিবুর রহমানের আচরণে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত।”
নান্দাইল মডেল থানার ওসি তদন্ত মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” অভিযুক্ত মজিবুর রহমান অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “পূর্বশত্রুতাবশত তারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। বর্তমানে আমার বাড়িঘরের চারপাশে বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে রেখেছে।”
Leave a Reply