কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল গোসাইবাজারে চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।
শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ৯টার দিকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা স্থানীয় কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী পায়েলের বাড়িঘরে আগুন দেয়। এ ঘটনায় তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পায়েল বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালানো তার নিয়মিত কৌশল হয়ে দাঁড়ায়।
গত, ৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ভুবিরচর এলাকায় এক নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েন পায়েল। এসময় স্থানীয়রা তার মোটরসাইকেল জব্দ করে পুলিশে দেয়। ওই ঘটনায় বাজারের একজন ব্যবসায়ী জড়িত ছিলেন।
এর জের ধরে পায়েল বহিরাগতদের নিয়ে গোসাইবাজারে হামলা চালান, দোকানপাট ভাঙচুর করেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। এতে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায়ীরা মাইকে ঘোষণা দিয়ে একজোট হয়ে পায়েল গ্রুপকে প্রতিরোধে নামেন। একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা তার বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে।
যশোদল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ওয়াহ্হাবুল হক বলেন, পায়েল বহুদিন ধরে বাজারে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে। চাঁদা না দিলেই হামলা করে। শুক্রবার সন্ধ্যারপর সে বহিরাগতদের নিয়ে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করে এবং ককটেল ফাটায়। তাই ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে এর প্রতিবাদ করেছে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালায়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পায়েলের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব রয়েছে। আমি ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিতে বলেছি, কিন্তু তারা দেয়নি। গতকালও পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। আজ উভয় পক্ষ মীমাংসার জন্য বসার সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সংঘর্ষ বাধে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।