কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এখন সেবা নয়, বরং ভোগান্তির প্রতীক। রোগিরা চিকিৎসার আশায় এখানে ছুটে এলেও এখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় মেলে অবহেলা, হয়রানি সেইসাথে অনিয়মতো রয়েছেই। রোগিদের ও স্বজনদের কান্না, ক্ষোভ আর হতাশাই বলে দিচ্ছে এই হাসপাতালকে সংস্কার ছাড়া বাঁচানো সম্ভব নয়।
হাসপাতালটির সংস্কার দাবি শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ও সাধারণ মানুষের উদ্যোগে অবস্থান কর্মসূচি চলছে।
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ও সাধারণ মানুষের উদ্যোগে চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে উঠে এসেছে ৭ দফা দাবি। দাবিগুলো হচ্ছে , চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, রাখতে হবে, হাসপাতাল ঘিরে থাকা দালালচক্র ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির সংকট দূর করতে হবে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও সুষ্ঠু সেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নেয়া শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন “এটি কেবল কিশোরগঞ্জ নয়, আশপাশের কয়েক জেলার মানুষের ভরসার হাসপাতাল। অথচ অব্যবস্থাপনা, ঘুষ-দালাল আর দায়িত্বহীনতার কারণে চিকিৎসার বদলে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
কিশোরগঞ্জের সাধারণ মানুষ বলছে, হাসপাতালকে মরণফাঁদ নয়, মানবসেবার কেন্দ্র বানাতে হবে। ডাক্তারদের দায়িত্ববোধে উজ্জীবিত হয়ে সেবায় ফিরতে হবে। নয়তো জনগণের ক্ষোভ ভয়াবহ আকারে বিস্ফোরিত হবে।”
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের রক্তস্নাত ইতিহাসের এই দেশে জনগণ জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা অর্জন করেছে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। অথচ আজ চিকিৎসার নামে চলছে অরাজকতা, দুর্নীতি ও অবহেলা।
কিশোরগঞ্জবাসীর স্পষ্ট বার্তা, আমরা সুস্থ জীবন চাই, ভোগান্তি নয়, আমরা সুচিকিৎসা চাই, দালালি নয়।আমরা রাষ্ট্রের সম্পদের সঠিক ব্যবহার চাই, অনিয়ম নয়।