কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার জনবান্ধব এসিল্যান্ড মামুন সরকার বদলীজনিত কারণে বিদায় নিয়েছেন।
বুধবার, ২০ অগাস্ট রাতে তিনি নতুন কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় সহকারি কমিশনার (ভূমি) হিসেবে তিনি যোগদান করবেন বলে জানা গেছে।
এর আগে বুধবার দপুর থেকে রাত পর্যন্ত পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রশাসন, অফিসার্স ক্লাব, উপজেলা ভূমি অফিস, পাকুন্দিয়া পৌরসভা এবং পাকুন্দিয়া থানায় পৃথকভাবে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে বিদায় দেয়া হয়। তাঁর চলে যাবার খবরে দিনভর স্থানীয় লোকজন তাঁর বিদায়ী কর্মস্থলে ভিড় করেন।
তিনি পাকুন্দিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও তিনি পাকুন্দিয়া পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন।
গত ১০ অগাস্ট তাঁর বদলীর আদেশ দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়। তাঁর বাড়ি টাংগাইল জেলার ভুয়াপুর উপজেলায়। এর আগে তিনি পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।
জানা যায়, গত বছরের ১১জুন তিনি পাকুন্দিয়া উপজেলায় সহকারি কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর অল্পদিনেই তিনি সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছিলেন। এছাড়াও উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, আইন শৃঙ্খলা রক্ষায়, মাদক, ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন,বাল্যবিবাহ, সড়ক পরিবহন, পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ৭০ টির বেশি মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করেছেন তিনি। এছাড়াও নিজ ভূমি অফিসে মাত্র ১৪ মাসে ৯ হাজার ৫শ’ নামজারি মামলা নিষ্পত্তি করেন। প্রতিটি নামজারি মামলা গড়ে ১৪ দিনে নিষ্পত্তি করেন। প্রায় ৭০০ এর বেশি মিস মোকদ্দমা নিষ্পত্তি, সরকারি খাস জমির অবৈধ দখল রোধ এবং খাস জমি উদ্ধার এর জন্য বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে তিনি আলোচিত হয়েছেন।
এসিল্যান্ডের পাশাপাশি তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পাকুন্দিয়া পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছেন। অল্প সময়ে দায়িত্ব পালন করে পৌরবাসীকে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করেছেন। নাগরিকত্ব সনদ, জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন সনদ, ওয়ারিশান সনদ কোনরূপ হয়রানি ব্যতীত সেবা গ্রহীতাগণ পেয়েছেন।
পৌরসভার নাগরিক দুলাল মিয়া বলেন, আমাদের পৌরসভায় এসিল্যান্ড মহোদয় প্রশাসক হিসেবে যোগদান করায় অল্পদিনেই পৌরসভার মানোন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। বাজারের ড্রেন, রাস্তাঘাট সংস্কার, নতুন রাস্তা নির্মাণসহ পৌরসভার উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন।
বিদায়ী এসিল্যান্ড মো. মামুন সরকার বলেন, পাকুন্দিয়াতে যোগদানের পর থেকে চেষ্টা করেছি মানুষ যাতে সহজে কোন প্রকার হয়রানী ছাড়াই ভূমি সেবা পায়। হয়তো সবসময়ই যেভাবে চায় সেভাবে সেবা দিতে পারিনি কিন্তু নিজ থেকে কোন ধরনের গাফিলতি করিনি। পাকুন্দিয়াবাসী বিবেচনা করবে তাদের জন্য কিছু করতে পেরেছি কিনা। আমার মন জয় করে নিয়েছে পাকুন্দিয়াবাসী। তাদের নিকট আমি চির কৃতজ্ঞ। আমি সবসময় এই উপজেলার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি। এসিল্যান্ড হিসেবে এবং পৌর প্রশাসক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে যদি কেউ দুঃখ পেয়ে থাকেন ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।