‘দেশি ফল বেশি খাই, আসুন ফলের গাছ লাগাই’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ফল মেলা। দেশীয় ফলের চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা এবং ফল চাষের গুরুত্ব তুলে ধরতেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি কিশোরগঞ্জের আয়োজনে এ মেলার আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার, ২৫ জুন এই মেলার উদ্বোধন করা হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চত্বরে আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান। ফিতা কেটে উদ্বোধনের পর তিনি মেলার স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিজাবে রহমত সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
উদ্বোধনী আয়োজন শেষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি কিশোরগঞ্জের উপ-পরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান।
এবারের মেলায় জেলার ১৩টি উপজেলার কৃষি অফিস ও হর্টিকালচার সেন্টার অংশ নিয়েছে। মোট ৮টি স্টলে প্রদর্শিত হচ্ছে দেশি-বিদেশি নানা জাতের সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল। মেলায় কাঁঠাল, জাম, আনারস, মাল্টা, লটকন, ড্রাগন ফল, আমলকি, বেল, পেয়ারা, কলা, ডেউয়া, জাম্বুরা, তালসহ বহু পরিচিত ও দুর্লভ ফলের সমারোহ দেখা গেছে।
দর্শনার্থীরা শুধু দেশি ফলের স্বাদই নিচ্ছেন না বরং ফল চাষের পদ্ধতি, চারা ও বীজ সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিচ্ছেন। এতে মেলাটি হয়ে উঠেছে এক আনন্দঘন, শিক্ষনীয় ও পরিবেশবান্ধব মিলনমেলায়।
আগামী শুক্রবার (২৭ জুন) পর্যন্ত চলবে এ ফল উৎসব। আয়োজকরা আশা করছেন, মেলার মাধ্যমে কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশীয় ফল চাষে আগ্রহ আরও বাড়বে এবং পুষ্টির ঘাটতি দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।