ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাড়ি ঘরে হামলা ভাঙচুর লুটপাট ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় দুইজন আহত হয়েছে।
বুধবার, ১৪ মে সকালে জাটিয়া ইউনিয়নের নিজতুলন্দর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এব্যাপারে ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম (৪৫) বাদি হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা হলেন, নিজতুলন্দর গ্রামের মৃত আব্দুল হেকিমের পুত্র আব্দুস ছামাদ (৬২) এবং তার দুই পুত্র মাকসুদ (২৬), নাহিম (২২)।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের নিজতুলন্দর গ্রামের কাজী মোজাফফর আলীর ছেলে কাজী হাফিজুল ইসলামের সাথে একই বাড়ির মৃত আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুস সামাদের দীর্ঘদিন যাবত জমি জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলেও বুধবার সকালে বিরোধপূর্ণ স্থানে বেড়া দিয়ে প্রতিপক্ষ দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় বাধা দিলে আব্দুস সামাদ ও তার ছেলেরা হাফিজুল ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে বেধড়ক মারপিট করে এবং ঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ফাতেমা বেগমকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও তার স্বামী হাফিজুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ আব্দুস ছামাদ বলেন, তারা আগে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করেছে। পরে দু'পক্ষের লোকজনেই মারামারিতে লিপ্ত হয়। শ্লীলতাহানির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। নিজের কাপড় নিজে ছিঁড়ে এই নাটক সাজিয়েছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য নয়ন মিয়া বলেন, বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে ইতিপূর্বে উভয়পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বসেছি। কিন্তু সমাধান হয়নি। যেহেতু জাগয়া নিয়ে আদালতে মামলা চলমান তাই উভয়পক্ষকে ধৈর্য ধরতে বলেছি। কিন্তু আব্দুস ছামাদের ছেলেরা একটু উগ্রপন্থী। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে তারা মারামারিতেই জড়ালো। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।