মামলা মাথায় নিয়ে এতদিন নিভৃতে দেশেই ছিলেন কিশোরগঞ্জের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত রাজনীতিবিদ ও দীর্ঘদিন ক্ষমতার পাদপ্রদীপে থাকা সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তার পরিবার পরিজনের বিরুদ্ধে রয়েছে ক্ষমতা অপব্যবহারসহ দুর্নীতির বহু অভিযোগ। দীর্ঘ দুইযুগেরও অধিক সময় জেলা সদরসহ হাওরের তিন উপজেলার মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও ইটনার দণ্ডমুণ্ডের কর্তা ছিলেন তারা। তাদের কথার বাইরে গাছের পাতাও যেন নড়তে ভয় পেত।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই সাবেক শাসকদলের প্রধানমন্ত্রীসহ দলটির শীর্ষ নেতারা দেশ ছেড়ে পালালেও আবদুল হামিদ বেশ নিরাপদেই এতদিন দেশে অবস্থান করছিলেন। অবশেষে তিনিও দেশ ছাড়লেন।
বৃহস্পতিবার, ৮ মে রাত তিনটা ৫ মিনিটে কিশোরগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলা নিয়ে নিরাপদেই তিনি থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দেশ ছাড়েন। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল একটি সূত্র তার দেশ ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
দায়িত্বশীল ওই সূত্র জানায়, রাত ১১টার দিকে বিমানবন্দরে আসেন আবদুল হামিদ। ইমিগ্রেশনে প্রয়োজনীয় যাচাইবাছাই শেষে দেশ ছাড়ার সবুজ সংকেত পান তিনি। রাত ৩টা ৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের টিজি ৩৪০ নম্বর ফ্লাইটে ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন আবদুল হামিদ।
সাবেক এই রাষ্ট্রপতির নামে গত ৪ অগাস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মিছিলে হামলা, গুলিসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে মামলা রয়েছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড গেছেন। তার সাথে রয়েছেন শ্যালক ডা. আ ন ম নৌশাদ খান ও ছোট ছেলে রিয়াদ আহমেদ তুষার। তবে তিনি কবে দেশে ফিরবেন বা আদৌ ফিরবেন কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট কৌতুহল রয়েছে। শ্যালক ডা, আ ন ম নৌশাদ খানের নামেও করিমগঞ্জ থানায় মামলা রয়েছে। এতদিন গুঞ্জন ছিল তিনি যেকোন সময় দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন।