কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর উপজেলার মধ্যে ইটনা অন্যতম। এবছর বোর মৌসুমে ইটনা উপজেলায় ২৭ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে বোর আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এতে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৮৫ মেট্টিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বোর ধানের বাম্পার ফলনের কারণে তা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইটনা উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে ইতিমধ্যে ৪৮% জমির বোর ধান কর্তন করা হয়েছে। ধান কাটা মাড়াই রোদে শুকানোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন হাওরের কৃষক। ধান কাটাইয়ে উপজেলার কৃষি শ্রমিকের পাশা পাশি ১০৮টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন ধান কর্তন করছে। এতে ধান কাটতে একর প্রতি দূরত্ব ভেদে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা করে নেয়া হচ্ছে।
ইটনা উপজেলার উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মাহাবুব ইকবাল বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এবছর বোর ধানের বাম্পার ফলনে কৃষক খুশি হলেও বর্তমান ধানের বাজার নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষকগণ। ইটনা সদরের কৃষক ইকবাল হোসেন বলেন, জমিতে প্রচুর ফলন হয়েছে তবে বর্তমান ফলন মৌসুমে ধানের বাজার মূল্য আটশত দশ থেকে আটশত পঞ্চাশ টাকার মধ্যে হওয়ায় কৃষকের হাসিমাখা মুখটি মলিন হয়ে যাচ্ছে। কৃষক সারা বছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে সোনার ফসল উৎপাদন করছে তার ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। সরকার প্রতি মন ধানের মূল্য চৌদ্দশত চল্লিশ টাকা নির্ধারণ করলেও সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ শুরু না হওয়ায় মাড়াই মৌসুমে এর কোন প্রভাব পড়ছে না স্থানীয় বাজারে।
এতে করে কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ হাওরের অধিকাংশ কৃষক ব্যাংক এনজিও মহাজনি সুদে ঋণের মাধ্যমে বোর ফসল উৎপাদন করে থাকেন। ঋণের বোঝা মাথা থেকে কিছুটা লাঘব করার জন্য কৃষক মাড়াই মৌসুমে অধিকাংশ বোর ধান বিক্রয় করে দেন। মাড়াই মৌসুমের সাথে সাথে দ্রুত গতিতে সরকার ধানের দাম নির্ধারণ ও সরকারি ভাবে ধান সংগ্রহের উদ্যোগ নিলে বাঁচবে কৃষক বাঁচবে দেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ হবে আমাদের বাংলাদেশ।