ময়মনসিংহের নান্দাইলে জনবহুল ও জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তার পাশে পচা ডিম ফেলে পরিবেশ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইউএনও’কে খোলা চিঠি দিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করে ও চিঠির মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষণ করায় তা ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। পাশাপাশি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মাঝে পজেটিভ কমেন্টসসহ পরিবেশ দূষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানানো হয়। খোলা চিঠি পেয়ে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সারমিনা সাত্তার বিষয়টি নোট করেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন বলে ফেসবুক পোস্টে কমেন্টস করে সকলকে আশ্বস্থ করেন।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, নান্দাইল উপজেলার রাজগাতী ইউনিয়নের উলুহাটি গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা "নান্দাইল রোড- তাড়াইল" সড়কের "যুগের হাওর" নামক স্থানে দীর্ঘদিন যাবৎ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও পোল্ট্রি হ্যাচারি মালিক তাদের পচা ডিম ফেলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে আসছে। এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের ফলে এলাকার বাতাস দূষিত হয়ে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পচা ডিমের দুর্গন্ধে "যুগের হাওর" এলাকার পরিবেশ এতটাই অসহনীয় হয়ে উঠেছে যে, শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ওই রাস্তা অতিক্রম করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক যাত্রী বমি করতে বাধ্য হন। অথচ "যুগের হাওর" এলাকায় বিভিন্ন উৎসবের সময় এলাকার রুচিশীল ভ্রমণ পিপাসু মানুষ রাস্তার পাশে এসে সময় কাটাতেন ও গল্প করতেন। এটা ছিল ছোটখাট পর্যটন স্থান। কিন্তু পরিবেশ দূষণের কারণে তা অস্বস্থিকর স্থানে পরিণত হয়েছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে "উলুহাটি পাওয়ার জেনারেশন" পুনরায় পঁচা ডিম ফেলা বন্ধের জন্য ইউএনও’র কাছে খোলা চিঠি দেয়। স্থানীয় সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন "উলুহাটি পাওয়ার জেনারেশন" নেতৃবৃন্দ জানান, ২০২৩ সনে পচা ডিম ফেলতে থাকা অবস্থায় কতিপয় দুষ্কৃতকারীকে হাতেনাতে ধরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন কোনো দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়। এর পিছনে প্রভাবশালী মদদদাতারা অর্থের মাধ্যমে আইনকে প্রভাবিত করেছে বলে অভিযোগ তুলে ধরেন তারা। ফলে দুষ্কৃতকারীরা আরও বেপরোয়াভাবে যুগের হাওর এলাকায় পচা ডিম ফেলতে শুরু করে।
এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সারমিনা সাত্তার বলেন, যুগের হাওর এলাকায় রাস্তার পাশে পরিবেশ দূষণের বিষয়টি জানতে পেরেছি, খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।