কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের উত্তরগনেশপুর খেয়াঘাটের ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে চরম অনিয়ম ও জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে।
সোমবার, ৭ এপ্রিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে তোফায়েল আহমেদ উল্লেখ করেন, ১৪৩২ বাংলা সনের জন্য খেয়াঘাট ইজারা প্রক্রিয়া পরিচালনায় উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় ইউনিয়ন টেন্ডার কমিটি গঠন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী সভা ডেকে সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে ইজারা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা থাকলেও, চেয়ারম্যান সাহেব সভা না ডেকে নিজে রেজুলেশন খাতা তৈরি করে অন্যদের মাধ্যমে কয়েকজন সদস্যের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন।
তিনি আরও জানান, টেন্ডার প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি একাধিকবার সভা আহ্বান ও টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুরোধ জানালেও চেয়ারম্যান তা আমলে নেননি। উপরন্তু, তিনি যখন প্রশিক্ষণের কারণে কিশোরগঞ্জ শহরে অবস্থান করছিলেন, তখন চেয়ারম্যানের নির্দেশে চামড়া বন্দর ব্যবসায়ী হাজী সোহরাফের ছেলে মিজান, উত্তর গণেশপুরের হাজী গোলাপ মিয়ার ছেলে মো. ফারুক ও নিয়ামতপুরের মনষন্তরষের মৃত সিরাজের ছেলে আলম তাকে পুরান থানার হাজী সোহরাফের একটি ভবনে ডেকে নিয়ে গিয়ে ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে জোরপূর্বক রেজুলেশনে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, “চেয়ারম্যানের লোকজন আমাকে ভয়ভীতি দেখায় এবং জানায়, স্বাক্ষর না করে গেলে পরিস্থিতি খারাপ হবে। এমনকি কয়েকদিন আগেও আমাকে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তিনি ইউএনও ও অফিস স্টাফদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে বাধ্য হয়ে নির্ধারিত তারিখের আগেই তৈরি করা রেজুলেশনে স্বাক্ষর করতে হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কর্মকর্তা দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিনের সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার জানান, আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং ওই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।