
সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত ইরানের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাসুদ পেজেশকিয়ান বিপুল ব্যবধানে তার রক্ষণশীল প্রতিপক্ষ সাঈদ জালিলিকে পরাজিত করে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিপক্ষ সাঈদ জালিলি সাবেক প্রধান পারমাণবিক আলোচক এবং শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান ছিলেন।
শনিবার, ৬ জুলাই সকালে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায় মাসুদ পেজেশকিয়ান তার প্রতিপক্ষ সাঈদ জালিলিকে ২.৭ মিলিয়ন ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচন শেষে গণনা করা মোট ৩ কোটি ৫৩ লাখ ১৫৭ ভোটের মধ্যে পেজেশকিয়ান ১ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪০৩ ভোট পেয়েছেন। শুক্রবারের রানঅফ নির্বাচনে পেজেশকিয়ানের নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী জলিলি পেয়েছেন ১ কোটি ৩৫ লাখ ৩৮ হাজার ১৭৯ ভোট।
শুক্রবারের নির্বাচন ছিল দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন। এর আগে গত ২৮ জুন প্রথম দফায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোন প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় দেশটির নিয়মানুযায়ী নির্বাচনটি বাতিল করা হয়।
এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হলে দেশটির প্রেসিডেন্টের পদটি শূন্য হয়। সেই শূন্য পদের বিপরীতে নির্বাচিত হয়ে মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হলেন।
তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব পেজেশকিয়ান ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির (২০০১-২০০৫) সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসাবে কাজ করেছেন এবং ২০০৮ সাল থেকে ইরানের জাতীয় সংসদে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাব্রিজের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
পেশাগত জীবনে পেজেশকিয়ান একজন কার্ডিওলজিস্ট হিসেবে তাবরিজ ইউনিভার্সিটি অফ মেডিকেল সায়েন্সেসের প্রধান ছিলেন, যা উত্তর ইরানের অন্যতম প্রধান চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান।
পেজেশকিয়ান বাধ্যতামূলক হিজাব, বা ইসলামিক হেডস্কার্ফসহ নারী-কেন্দ্রিক বিষয়েও সোচ্চার ছিলেন, ইসলামিক পোষাক কোড বিল বাস্তবায়নের বিষয়ে একটি সংসদীয় বিলের বিরোধিতা করেছিলেন তিনি।
আল জাজিরা থেকে অনুদিত
Leave a Reply