৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে বুধবার। ৩য় ধাপে কিশোরগঞ্জের চারটি উপজেলায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮ টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় বিকাল ৪ টায়। উপজেলা ৪ টি হলো করিমগঞ্জ,তাড়াইল,ইটনা ও মিঠামইন। নির্বাচনকে ঘিরে সবকিছু ছাপিয়ে এ ৪ টি উপজেলায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। ভোটাররা সানন্দে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সকালে ভোটারদের উপস্থিতি কম হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। ৪ উপজেলার মধ্যে করিমগঞ্জ উপজেলা ছাড়া অন্য কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচন চলাকালীন বেলা দুইটার দিকে নোয়াবাদ ইউনিয়নের কুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিউল আলম জনির লোকজন হঠাৎ করেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে মোজাম্মেল হক মাখনের সমর্থকদের উপর। এসময় হামলায় তার ৭ কর্মী আহত হন। আহতদের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় সুমন(২৮) ও নাজমা (৩০) কে কর্তব্যরত চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে খবর পাওয়া গেছে। করিমগঞ্জ থানার ওসি বিডিচ্যানেল ফোরকে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ৪ টি উপজেলায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় জোরালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে ভোটাররা শান্তিপুর্ণভাবে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এদিকে করিমগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতাঅ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক খান মাখন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে পেয়েছেন পেয়েছেন ২৭ হাজার ৯২৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শফিউল আলম জনি দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৪৮ ভোট।
তাড়াইল উপজেলায় বিজয়ী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম ভূইয়া শাহিন। তিনি পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৭২৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন লাকী মোটর সইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৬৩৫ ভোট।
ইটনা উপজেলায় বিজয়ী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান চৌধুরি কামরুল হাসান। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৪৬৪ ভোট।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট আবুল কাউছার খান মিলকী মোটর সাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৯০ ভোট।
মিঠামইন উপজেলায় টানা ২য় বারের মত চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন হাওরকন্যা খ্যাত বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আছিয়া আলম। মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে আলহাজ্ব আছিয়া আলম পেয়েছেন ২৩ হাজার ৫৬৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বোরহান উদ্দিন চৌধুরী বুলবুল আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৩ হাজার ৫৬৪ ভোট।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ জানান,'৩য় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দশনা দেয়া হয়। তিনি আরো জানান,উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় জোরালো প্রস্তুতি। র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার বাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন ছিলো। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রেই পুলিশ ও আনসার সদস্যরা আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিলো।
উল্লেখ্য,করিমগঞ্জ উপজেলায় মোট ভোটার করিমগঞ্জ মোট ভোটার ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪০ হাজার ১৫১ জন। মহিলা ভোটার ১ লাখ ৩২ হাজার ৭৯৪ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ৯৯ টি।
তাড়াইল উপজেলার মোট ভোটার ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭৫ হাজার ৯৬৩ জন। মহিলা ভোটার রয়েছেন ৭১ হাজার ১২ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ৫৬ টি।
ইটনা উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫০১ জন। পুরুষ ভোটার ৭৫ হাজার ২২৪ জন।মোট মহিলা ভোটার ৭১ হাজার ২৭৭ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ৫৭ টি।
মিঠামইন উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৫ হাজার ৫৫৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫৪ হাজার ৩৭১ জন। মহিলা ভোটার ৫১ হাজার ১৮৫ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ৪২ টি।